ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খবর ধারা :
বড়লেখা পৌরসভা চালায় আওয়ামী লীগ! যুবলীগ সভাপতি জালালের ১২ লাখ টাকা কেলেঙ্কারি ফাঁস তফসিলই হয়নি, তারিখও অজানা — এরই মধ্যে বড়লেখায় মেয়র প্রার্থীর ১৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা, জনমনে প্রশ্ন শাহবাজপুরে ৩৬০ মিটারের রাস্তায় ৭০ লাখের টেন্ডার: এলটিএমের আড়ালে কাজ পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান বড়লেখা পৌরসভা: বিএনপি আমলে কীভাবে কাজ পেলেন যুবলীগ নেতা শাহজাহান কমিশনার? সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী ছাত্রদলের গলা টিপে ধরার ছবিটি ভুয়া, গুজব ছড়াচ্ছেন জাকির হোসেন ইউপি নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নিয়ে ভাইরাল তথ্য ‘গুজব’ সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার, ২ মাস পর লাশ হলো সুফিয়ান | বড়লেখা রাজনগরে ৮ ফুট মাটির নিচে গৃহবধূর লাশ, স্বামীর স্বীকারোক্তিতে উদ্ধার জাফরের অপরাধ কী? ৭০০ টাকার বিতর্কে নিহতের স্ত্রীর ভুল স্বীকার, লাইভে ১৫ হাজার দেন জাফর ইকবাল |

জাফরের অপরাধ কী? ৭০০ টাকার বিতর্কে নিহতের স্ত্রীর ভুল স্বীকার, লাইভে ১৫ হাজার দেন জাফর ইকবাল |

খবর ধারা নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

জাফরের অপরাধ কী? ভুল স্বীকার করলেন নিহতের স্ত্রী। এর দায় কার?

নিজস্ব প্রতিনিধি ৩০ জুন ২০২৬: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারকে ‘মাত্র ৭০০ টাকা সহায়তা’ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় করা বিতর্কে নতুন মোড়। নিহতের স্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, “আমি ভুলবশত শাশুড়ির হাতে ৭০০ টাকা দিয়া বাকী টাকা রাখি দিসলাম।” তার এই স্বীকারোক্তির পর এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে সবার মুখে—তাহলে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সমাজকর্মী জাফর ইকবালের অপরাধটা কী? আর এই বিভ্রান্তির দায় আসলে কার?

গত ২৬ জুন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম কুলাউড়ায় নিহত মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারতে যান। জিয়ারত শেষে পরিবারের সাথে সাক্ষাতে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে বলেন, “যার পকেটে যা আছে, তা নিহতের পরিবারকে দিন।”

এনসিপির স্থানীয় নেতারা জানান, “মূলত কেন্দ্রীয় ২ নেতা কবর জিয়ারতে আসেন। টাকা দেওয়ার কোনো প্ল্যান ছিল না। তবুও তাদের অর্থনৈতিক দুরবস্থা দেখে উপস্থিত সবাই কিছু সহযোগিতা করেন। আমাদের দায়িত্বশীল কয়েকজনই ২ হাজার, ১ হাজার এবং ৫০০ করে দিয়েছেন। লাইভ ভিডিওতেও দেখা যায় এমনটা।”

ঘটনার পরদিন বড়লেখার ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ খ্যাত সমাজকর্মী জাফর ইকবাল নিহতের বাড়িতে যান। সেখানে লাইভ ভিডিও চলাকালে নিহতের পরিবার দাবি করেন, এনসিপির নেতারা মাত্র ৭০০ টাকা দিয়েছেন। এই ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

কিন্তু একই লাইভ চলাকালেই জাফর ইকবাল নিজে নিহত মুজিবের স্ত্রীর হাতে ১৫ হাজার টাকা নগদ তুলে দেন।

স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের অনুসন্ধানে এবার উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহত মুজিবের স্ত্রী স্বীকার করেছেন, তিনি ভুলবশত টাকা এক জায়গায় রেখে দিয়েছিলেন। শাশুড়ির হাতে শুধু ৭০০ টাকা তুলে দেওয়ায় সেখান থেকেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

এই স্বীকারোক্তির পরই প্রশ্ন উঠছে- ১. জাফরের অপরাধ কী? তিনি একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিবারের বক্তব্য লাইভে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি নিজে ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন।

২. দায় কার? পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিডিও হয়েছে। এখন পরিবারই বলছে তথ্যটি ভুল ছিল। তাহলে যিনি শুধু বক্তব্য প্রচার করেছেন, তার ঘাড়ে দায় চাপানো কতটা যৌক্তিক?
৩. সত্য প্রকাশ কি অপরাধ? জাফরের ভিডিওর পরই অনুসন্ধান হয়েছে এবং আসল সত্য বেরিয়ে এসেছে। সত্য তুলে ধরাই কি তার অপরাধ?

বড়লেখার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “জাফর ভাই না থাকলে আমরা জানতামই না আসল ঘটনা কী। উনিই ভিডিও করলেন, উনিই ১৫ হাজার দিলেন। এখন উনারেই দোষী বানানো হচ্ছে। এটা অন্যায়।”

আরেক স্থানীয় তরুণ সুমন আহমদ বলেন, “নিহতের স্ত্রী নিজে বলছেন ভুল করেছেন। তাহলে জাফর ভাই কী করবেন? উনি তো আর নিজের মনগড়া কথা বলেননি।”

‘৭০০ টাকার বিতর্ক’ এখন উল্টো পথে হাঁটছে। নিহতের স্ত্রীর স্বীকারোক্তিতে পরিষ্কার—মূল বিভ্রান্তির উৎস পরিবারের ভেতরেই। অথচ ঘটনা প্রচার ও সহায়তা করে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ জাফর ইকবালই এখন কাঠগড়ায়।

জনমনে প্রশ্ন একটাই: দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, ১৫ হাজার টাকা দেওয়া আর সত্য প্রকাশ করাই যদি অপরাধ হয়, তাহলে সমাজকর্মীর সংজ্ঞা কী?

নিউজটি শেয়ার করুন

জাফরের অপরাধ কী? ৭০০ টাকার বিতর্কে নিহতের স্ত্রীর ভুল স্বীকার, লাইভে ১৫ হাজার দেন জাফর ইকবাল |

আপডেট সময় : ০২:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

জাফরের অপরাধ কী? ভুল স্বীকার করলেন নিহতের স্ত্রী। এর দায় কার?

নিজস্ব প্রতিনিধি ৩০ জুন ২০২৬: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারকে ‘মাত্র ৭০০ টাকা সহায়তা’ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় করা বিতর্কে নতুন মোড়। নিহতের স্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, “আমি ভুলবশত শাশুড়ির হাতে ৭০০ টাকা দিয়া বাকী টাকা রাখি দিসলাম।” তার এই স্বীকারোক্তির পর এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে সবার মুখে—তাহলে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সমাজকর্মী জাফর ইকবালের অপরাধটা কী? আর এই বিভ্রান্তির দায় আসলে কার?

গত ২৬ জুন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম কুলাউড়ায় নিহত মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারতে যান। জিয়ারত শেষে পরিবারের সাথে সাক্ষাতে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে বলেন, “যার পকেটে যা আছে, তা নিহতের পরিবারকে দিন।”

এনসিপির স্থানীয় নেতারা জানান, “মূলত কেন্দ্রীয় ২ নেতা কবর জিয়ারতে আসেন। টাকা দেওয়ার কোনো প্ল্যান ছিল না। তবুও তাদের অর্থনৈতিক দুরবস্থা দেখে উপস্থিত সবাই কিছু সহযোগিতা করেন। আমাদের দায়িত্বশীল কয়েকজনই ২ হাজার, ১ হাজার এবং ৫০০ করে দিয়েছেন। লাইভ ভিডিওতেও দেখা যায় এমনটা।”

ঘটনার পরদিন বড়লেখার ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ খ্যাত সমাজকর্মী জাফর ইকবাল নিহতের বাড়িতে যান। সেখানে লাইভ ভিডিও চলাকালে নিহতের পরিবার দাবি করেন, এনসিপির নেতারা মাত্র ৭০০ টাকা দিয়েছেন। এই ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

কিন্তু একই লাইভ চলাকালেই জাফর ইকবাল নিজে নিহত মুজিবের স্ত্রীর হাতে ১৫ হাজার টাকা নগদ তুলে দেন।

স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের অনুসন্ধানে এবার উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহত মুজিবের স্ত্রী স্বীকার করেছেন, তিনি ভুলবশত টাকা এক জায়গায় রেখে দিয়েছিলেন। শাশুড়ির হাতে শুধু ৭০০ টাকা তুলে দেওয়ায় সেখান থেকেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

এই স্বীকারোক্তির পরই প্রশ্ন উঠছে- ১. জাফরের অপরাধ কী? তিনি একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিবারের বক্তব্য লাইভে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি নিজে ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন।

২. দায় কার? পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিডিও হয়েছে। এখন পরিবারই বলছে তথ্যটি ভুল ছিল। তাহলে যিনি শুধু বক্তব্য প্রচার করেছেন, তার ঘাড়ে দায় চাপানো কতটা যৌক্তিক?
৩. সত্য প্রকাশ কি অপরাধ? জাফরের ভিডিওর পরই অনুসন্ধান হয়েছে এবং আসল সত্য বেরিয়ে এসেছে। সত্য তুলে ধরাই কি তার অপরাধ?

বড়লেখার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “জাফর ভাই না থাকলে আমরা জানতামই না আসল ঘটনা কী। উনিই ভিডিও করলেন, উনিই ১৫ হাজার দিলেন। এখন উনারেই দোষী বানানো হচ্ছে। এটা অন্যায়।”

আরেক স্থানীয় তরুণ সুমন আহমদ বলেন, “নিহতের স্ত্রী নিজে বলছেন ভুল করেছেন। তাহলে জাফর ভাই কী করবেন? উনি তো আর নিজের মনগড়া কথা বলেননি।”

‘৭০০ টাকার বিতর্ক’ এখন উল্টো পথে হাঁটছে। নিহতের স্ত্রীর স্বীকারোক্তিতে পরিষ্কার—মূল বিভ্রান্তির উৎস পরিবারের ভেতরেই। অথচ ঘটনা প্রচার ও সহায়তা করে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ জাফর ইকবালই এখন কাঠগড়ায়।

জনমনে প্রশ্ন একটাই: দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, ১৫ হাজার টাকা দেওয়া আর সত্য প্রকাশ করাই যদি অপরাধ হয়, তাহলে সমাজকর্মীর সংজ্ঞা কী?