বড়লেখা পৌরসভা চালায় আওয়ামী লীগ! যুবলীগ সভাপতি জালালের ১২ লাখ টাকা কেলেঙ্কারি ফাঁস
- আপডেট সময় : ০৮:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বড়লেখা পৌরসভা চালায় আওয়ামী লীগ! বিমানবন্দরে আটক যুবলীগ সভাপতি জালালের ১২ লাখ টাকার কোটেশন কেলেঙ্কারি ফাঁস
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, খবর ধারা : বড়লেখা পৌরসভায় দিনে দুপুরে লুটপাট চলছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও পৌরসভা চলছে আওয়ামী লীগের নিয়মে। সিলেট বিমানবন্দরে আটক হওয়া সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতিই এখন পৌরসভার ঠিকাদার। ১২ লাখ টাকার একটা রাস্তার কাজকে কৌশলে দুই ভাগ করে তাকে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি টেন্ডার ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বড়লেখা পৌরসভার আইডি নম্বর ২১৮২৯৬ এর অধীনে বারইগ্রাম বিসি রোড মেরামতের কাজকে দুই ভাগ করা হয়েছে।

১. কাজ নম্বর W-01, টেন্ডার আইডি ১২৯৭৩৬৮ – বারইগ্রাম রাস্তা ০ থেকে ১০৫০ মিটার, টাকার পরিমাণ ৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। কাজ দেওয়ার তারিখ ২৩ জুন ২০২৬।
২. কাজ নম্বর W-02, টেন্ডার আইডি ১২৯৭৫৫৭ – বারইগ্রাম একই রাস্তা ১০৫০ থেকে ২৩০০ মিটার, টাকার পরিমাণ ৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। কাজ দেওয়ার তারিখও ২৩ জুন ২০২৬।

এক রাস্তা দুই ভাগ করে এই দুইটাই কাজ পেয়েছেন জালাল আহমদ, ঠিকানা গ্রামতলা কলেজ রোড, বড়লেখা। কাগজে তার নামে শতভাগ মালিকানা উল্লেখ রয়েছে। দুইটা কাজের অনুমোদন দিয়েছেন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রাজীব বড়ুয়া। সই করেছেন পৌর প্রশাসক নায়মা নাদিয়া।
মানে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকার একটা রাস্তাকে ভেঙে ৫ লাখ আর ৬ লাখ করে একই দিনে একই লোককে দেওয়া হয়েছে।

কে এই জালাল?
জালাল বড়লেখা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতন হওয়ার পর ২৯ আগস্ট বিকেলে সৌদি আরব পালানোর সময় সিলেট বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। এখন সে জামিনে আছে।

জালাল আহমদ খবর ধারা কে বলে, “আমি অনলাইনে টেন্ডার দিয়ে কাজ পেয়েছি। এক কাজ দুই ভাগে কেন দিলো আমি জানি না। কাগজের জন্য অফিসে যান।” প্রমাণ হিসেবে সে একটা ইমেইলের ছবি দিয়েছে।
কিন্তু তার দেওয়া ছবিতেই লেখা আছে এটা কোটেশন পদ্ধতির কাজ। এই পদ্ধতিতে সবাই টেন্ডার দিতে পারে না। পৌরসভা যাকে ডাকবে শুধু সেই ৩ জনই দিতে পারে। তাহলে প্রশ্ন হলো, যুবলীগ সভাপতিকে কেন ডাকা হলো? বাকি ২ জন কে?

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০ লাখ টাকার বেশি হলে খোলা টেন্ডার করতে হয়, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হয়, সবাই জানতে পারে। আর ১০ লাখের কম হলে কোটেশনে দেওয়া যায়, যেখানে পৌরসভা নিজের পছন্দের ৩ জনকে ডেকে যাকে খুশি কাজ দিয়ে দিতে পারে। ১২ লাখ টাকার কাজ একসাথে দিলে খোলা টেন্ডার করতে হতো। তাই কৌশলে দুই ভাগ করে কোটেশনে দেওয়া হয়েছে। এটাই কোটেশন বাণিজ্য।

এ বিষয়ে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রাজীব বড়ুয়াকে খবর ধারা এর পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করলে ও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
জেলা এলজিইডি জানিয়েছে, পৌরসভা আলাদা প্রতিষ্ঠান, এটা দেখার দায়িত্ব পৌর প্রশাসক আর ডিডিএলজির। আমাদের কিছু করার নেই।
পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে বড়লেখা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা নাদিয়া এবং জেলায় ডিডিএলজি সাথে বারবার মেসেজ দিয়ে ও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির দুই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগের নিয়মে এখনো প্রশাসন চলছে। তা না হলে বিমানবন্দরে আটক যুবলীগ সভাপতি কিভাবে কাজ পায়? বিএনপির এক সুবিধাবাদী নেতার ইশারা ছাড়া পৌরসভার কর্মকর্তা এভাবে কাজ দেওয়ার সাহস পেতো না।”
এলাকার মানুষ এই কাজের তদন্ত চায়। তারা দুদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।










