জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাইকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ নদীতে, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার – স্বীকারোক্তি
- আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাইকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ নদীতে, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার – স্বীকারোক্তি
নিজস্ব প্রতিবেদন : জুড়ী উপজেলায় সিএনজি চালক আবুল কালাম বলাই (৪০) কে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক গৃহবধূ ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে জুড়ী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত বলাই উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পার্শ্ববর্তী গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব কচুরগুল নালাপুঞ্জি এলাকার বাসিন্দা আছমা বেগম (৩৮) ও তার মেয়ে লিমা আক্তার (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলাই দুটি বিয়ে করেছেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী আছমার ননদ। স্বামী মারা যাওয়ার পর আছমা দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। সংসারের খরচ চালাতে তিনি একটি সিএনজি কেনেন, সেটি ভাড়ায় চালাতেন বলাই। এ কারণে তিনি প্রায়ই আছমাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
পুলিশের ভাষ্য- তাদের ঘর থেকে নদীর দূরত্ব প্রায় ১০০ ফুট। মা-মেয়ে লাশ টেনে নিতে পারবে না, তাই একটি কলাগাছ কেটে তার সঙ্গে বেঁধে লাশটি টেনে নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। কলাগাছ পিচ্ছিল থাকায় টেনে নেওয়া সহজ ছিল। নদীর পাড়ে গিয়ে লাশটি গাছ থেকে খুলে পানিতে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে আছমার সঙ্গে বলাইয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়। গত মঙ্গলবার রাতে বলাই আছমাদের বাড়িতে যান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গিরাই এলাকায় জুড়ী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা মরদেহটি বলাইয়ের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় বলাইয়ের ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জুড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ভুক্তভোগীর মুঠোফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে আছমা ও তার মেয়ে লিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছমা বেগম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে বিয়ের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বলাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক তিনটার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন আছমা। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।”
ওসি আরও জানান, আছমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র এবং মাটির নিচে পুঁতে রাখা নিহতের মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য মৌলভীবাজারের আদালতে পাঠানো হয়েছে।









