ছাত্রদলের গলা টিপে ধরার ছবিটি ভুয়া, গুজব ছড়াচ্ছেন জাকির হোসেন
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
নেতার গলা টিপে ধরার ভাইরাল ছবিটি AI দিয়ে তৈরি, বিভ্রান্তিকর দাবিতে পোস্ট করলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস এম জাকির হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, খবর ধারা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, একজন ব্যক্তি আরেকজন শিক্ষার্থীর গলা চেপে ধরেছেন এবং ছবিতে লেখা ‘ছাত্রদল’ ও ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’। এই ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হচ্ছে, আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদল।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি সঠিক নয়। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি এবং প্রচারিত তথ্য বিভ্রান্তিকর।
সম্প্রতি সাবেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে ওই AI ছবিটি ব্যবহার করে একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী, গতকালের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী… ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর কণ্ঠরোধে গলা টিপে ধরে।”
তার এই পোস্টের পর একই ছবি ও প্রায় একই ধরনের ক্যাপশন ব্যবহার করে একযোগে বেশ কয়েকটি পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।
Rumor Scanner জানায়, ভাইরাল হওয়া মূল ভিডিওতে যাকে গলা টিপে ধরা হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তিনি কোনো আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থী নন। তিনি ছাত্রদলেরই একজন কর্মী। এবং যিনি তাকে ধরে আছেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি **মোহাম্মদ ওমর ফারুক মামুন**।
ভিডিওর পূর্ণাঙ্গ ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিজ দলের এক উত্তেজিত কর্মী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিলেন। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মামুন তাকে টেনে ধরে থামানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই মুহূর্তের একটি স্থিরচিত্রকে বিচ্ছিন্নভাবে নিয়ে AI দিয়ে নতুন রূপ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীকে হেনস্তা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, এইচএসসি পরীক্ষার মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে বিদেশে অবস্থান করে এ ধরনের ভুয়া ছবি ও তথ্য ছড়ানো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ১২ লাখ পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের আবেগকে ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ধরনের গুজব থেকে সতর্ক থাকতে এবং যাচাই না করে কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।









