রাজনগরে ৮ ফুট মাটির নিচে গৃহবধূর লাশ, স্বামীর স্বীকারোক্তিতে উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
৮ ফুট মাটির নিচে ১৮ দিন: রাজনগরে স্বামীর দেখানো গর্তেই গৃহবধূর গলিত মরদেহ
নিজস্ব প্রতিবেদন : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নিখোঁজের ১৮ দিন পর বাড়ির উঠানের ৮ ফুট মাটির নিচ থেকে গৃহবধূ জাহেদা বেগমের, ৩৮, গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামী আলমগীর আলীর স্বীকারোক্তি ও দেখানো স্থানেই সোমবার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খনন চালিয়ে লাশ তোলা হয়। এ ঘটনায় স্বামীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় নিজ বসতবাড়ির উঠানে প্রায় ৮ ফুট গর্ত খুঁড়ে স্ত্রীকে পুঁতে রাখে স্বামী আলমগীর আলী, ৪০। গত ১৮ জুন থেকে জাহেদা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনরা খোঁজ নিতে গেলে আলমগীর দাবি করে, তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছে।
দীর্ঘদিন খোঁজ না পেয়ে ৩ জুলাই নিহতের বাবা সোনাটিকী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান রাজনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি, জিডি, করেন। জিডির তদন্তে পুলিশ আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে সে।
স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সোমবার ৬ জুলাই জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে খননকাজ চালানো হয়। ৮ ফুট মাটির নিচ থেকে জাহেদার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর আলী, জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, “নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাহেদা ও আলমগীর দম্পতির ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মায়ের নৃশংস মৃত্যুতে শিশুটি মা-হারা হলো।
বিভৎস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করিমপুর চা বাগানসহ পুরো রাজনগর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উঠানের নিচে ১৮ দিন ধরে লাশ পুঁতে রাখার ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।









