দক্ষিণভাগ ইউনিয়নে লাঠিপেটার অভিযোগ: ইউএনওকে অবহিত, তদন্তের আশ্বাস দিলেন এসিল্যান্ড
- আপডেট সময় : ০৮:২৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
দক্ষিণভাগ ইউনিয়নে লাঠিপেটার অভিযোগ: ইউএনওকে অবহিত, তদন্তের আশ্বাস দিলেন এসিল্যান্ড
নিজস্ব প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদে মাদকসহ আটক এক ব্যক্তিকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে লাঠিপেটার অভিযোগ এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধর করা হচ্ছে। পরে ওই ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ড প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা নাদিয়া “খবর ধারা” কে বলেন,
“গত ২৩/০৬/২০২৬ তারিখে দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন পরিষদের পিছনের রাস্তা হতে একজনকে সাধারণ জনগণ মাদকসহ আটক করে অবহিত করে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সুবিধার্থে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। মোবাইল কোর্ট চলমান অবস্থায় তাকে কোনো শারীরিক শাস্তি বা বলপ্রয়োগ করা হয়নি। আমার উপস্থিতিতে বা আমার নির্দেশনায় আসামিকে লাঠিপেটা করা হয়নি। এটা আইনগতভাবে বৈধ নয়। তবে জানা গেছে, আমার ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে, যা সম্পর্কে আমি অবহিত নই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে। পূর্ণ তথ্য নিয়ে তদন্তক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি ঘটনাটি আইনগতভাবে বৈধ না হয়, তাহলে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করা হলো কীভাবে এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হলো কেন?
অনেকেই বলছেন, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আগেই প্রকাশ্যে মারধর এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল হক ভিডিও প্রচার করে শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো এলাকার সামাজিক মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল হকের ফেসবুক আইডি থেকেই মারধরের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অবশ্যই প্রয়োজন, তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং প্রকাশ্যে কাউকে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।










