বড়লেখায় গভীর রাতে বিএনপির বৈঠক। নির্দেশনা শুনেই কর্মীদের ক্ষোভ: ‘পাহারা দেবে কর্মীরা, সুবিধা নেবে হাইব্রিড নেতারা’
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বড়লেখায় গভীর রাতে বিএনপির বৈঠক। নির্দেশনা শুনেই কর্মীদের ক্ষোভ: ‘পাহারা দেবে কর্মীরা, সুবিধা নেবে হাইব্রিড নেতারা’
বড়লেখা প্রতিনিধি : ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বর্তমান এমপি নাসির উদ্দীন আহমদ মিঠু’র নির্দেশে রোববার রাত ১টায় বড়লেখা সিটি ক্লিনিকে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আগামী তিন দিন দেশজুড়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা নাশকতার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সকল ইউনিটকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।
আজসহ ৩ দিন সারা দেশে নাশকতার চেষ্টা করতে পারে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা। তাই সকল ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালন করবে, আর যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সহযোগিতা করবেন।”
এই নির্দেশনা বিভিন্ন ওয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ার পর তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী দাবি করেন, “দলের সুবিধা নেবে হাইব্রিড নেতারা, আর পাহারা দেবে কর্মীরা তা হবে না।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “এসব বলে লাভ নেই, আপনাদের জন্য বিএনপি আটকে থাকবে না। বিএনপি তার গতিতে চলবে, কিন্তু দলের বিরুদ্ধে যারা দেশের বিরুদ্ধে যারা এই সমস্ত লেখালেখি বাদ দেন ” তিনি যুবদলের এক নেতার নাম ধরে বলেন তোমার জন্য বিএনপি আটকে থাকবে না। এ বক্তব্যের পর কর্মীরা আরও ক্ষুব্ধ হন। কয়েকজন কর্মী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “দল এখন ক্ষমতায়, তবু আমাদের প্রয়োজন নাই। এজন্যই এরকম কথা বলছেন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজ ছাত্রদলের এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারের যেকোনো অনুদান আসলে সুপার ফাইভ নেতাদের কে দেওয়া হয়। ত্যাগী কর্মীরা কিছুই পায় না।” তিনি প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, “ওই হাইব্রিড নেতাদেরকে বলুন রাজপথে পাহারা দিতে। সুবিধার সময় তারা, আর বিপদের সময় শুধু আমরা কেন?”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান খবর ধারা নিউজকে বলেন, “আমি উপজেলা বিএনপির রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক, আমি এই বৈঠক সম্বন্ধে কিছুই জানি না। হয়তো ব্যক্তিগত কোন বিষয় হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “দলে ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করলে ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। যারা দীর্ঘ দিন দলের কর্মকাণ্ডে ছিলো না কিংবা আওয়ামী লীগের সাথে যোগসাজশ দৃশ্যমান ছিলো এদের পদায়ন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে ত্যাগীদের বিরোধী দলের যেকোনো অপতৎপরতা মোকাবেলায় আগামীতে মাঠে নামানো কঠিন হবে।”










