ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খবর ধারা :
মেয়র মনোনয়ন ও জনসহানুভূতি আদায়ে, বারবার অনুরোধেও জামিন নেননি খিজির, অতঃপর গ্রেফতার বড়লেখা-জুড়ীতে রাস্তা ও জনকল্যাণমূলক কাজে এমপি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর বিশেষ অনুদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বড়লেখায় বিএনপির মিছিল ও পথসভা বড়লেখায় ডিসির আদেশ তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ ইটভাটা! জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ স্লোগানে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল বড়লেখা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন এমপি মিঠুর উপস্থিতিতে বড়লেখায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন জোড়া খুন মামলার আসামি জামায়াত নেতা সামছুল ইসলাম গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ হাকালুকির গুপ্তধন! পিট কয়লা উত্তোলনে সংসদে সরব এমপি নাসির উদ্দিন আহমদ আবারও জামায়াতের নেতৃত্বে বড়লেখায় ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন

মেয়র মনোনয়ন ও জনসহানুভূতি আদায়ে, বারবার অনুরোধেও জামিন নেননি খিজির, অতঃপর গ্রেফতার

খবর ধারা নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

মেয়র মনোনয়ন ও জনসহানুভূতি আদায়ে, বারবার অনুরোধেও জামিন নেননি খিজির, অতঃপর গ্রেফতার

বড়লেখা প্রতিনিধি, খবর ধারা: মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র প্রার্থী খিজির আহমদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে বড়লেখার হাজীগঞ্জ বাজারের আলভীন রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের প্রতিবাদে বড়লেখায় জামায়াতে ইসলামী ও তৌহিদী জনতার মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে পুলিশ হামলা ও গুলিবর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে লোকমান আহমদ নিহত হন।

এ ঘটনায় খিজির আহমদসহ জামায়াতে ইসলামীর ৬৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রায় ১৩ বছর আগের ওই মামলার ওয়ারেন্ট বহাল থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খিজির আহমদের গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির নেতা আব্দুল কাদির পলাশ। “খবর ধারা” কে তিনি বলেন, এই গ্রেফতার নিছক লোক দেখানো নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। তার দাবি, এই মামলার ওয়ারেন্ট অনেক আগেই থানায় পৌঁছেছিল, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও খিজির আহমদ জামিন নেননি। এ বিষয়ে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা বিচার-বিবেচনার ভার তিনি পৌর এলাকার সচেতন নাগরিকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বড়লেখা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির এমাদুল ইসলাম “খবর ধারা” কে বলেন, “শহীদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের দিন পুলিশের গুলিতে লোকমান আহমদ নিহত হন। সেই মামলায় পুলিশ বাদী হয়ে আমাদের আসামি করে। সেই মামলার ওয়ারেন্টেই খিজির আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইউনূস সরকারের আমলে লোকমান হত্যা মামলার সব কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং মামলাটি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাহলে হঠাৎ কেন এই গ্রেফতার?”

জানা গেছে, বড়লেখা পৌরসভায় জামায়াতের মেয়র প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান ও প্রবাসে ব্যবসা থাকায় খিজির আহমদ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিয়মিত দেশে আসা-যাওয়া করছেন, যদিও বর্তমানে জামায়াতের কোনো দায়িত্বে নেই।

স্থানীয় অনেকের ধারণা, মেয়র মনোনয়নের দৌড়ে নিজেকে আলোচনায় নিয়ে আসতে এবং জনসহানুভূতি আদায়ের কৌশল হিসেবেই খিজির আহমদ দীর্ঘদিন জামিন না নিয়ে নিজেকে গ্রেফতার হতে দিয়েছেন বলে মনে করছেন তারা। তাদের প্রশ্ন, একটি দীর্ঘদিনের পুরনো ও প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকা মামলায় হঠাৎ কেন এই পদক্ষেপ, আর কেনই বা বারবার সুযোগ পেয়েও জামিনের ব্যবস্থা করা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মেয়র মনোনয়ন ও জনসহানুভূতি আদায়ে, বারবার অনুরোধেও জামিন নেননি খিজির, অতঃপর গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

মেয়র মনোনয়ন ও জনসহানুভূতি আদায়ে, বারবার অনুরোধেও জামিন নেননি খিজির, অতঃপর গ্রেফতার

বড়লেখা প্রতিনিধি, খবর ধারা: মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র প্রার্থী খিজির আহমদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে বড়লেখার হাজীগঞ্জ বাজারের আলভীন রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের প্রতিবাদে বড়লেখায় জামায়াতে ইসলামী ও তৌহিদী জনতার মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে পুলিশ হামলা ও গুলিবর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে লোকমান আহমদ নিহত হন।

এ ঘটনায় খিজির আহমদসহ জামায়াতে ইসলামীর ৬৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রায় ১৩ বছর আগের ওই মামলার ওয়ারেন্ট বহাল থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খিজির আহমদের গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির নেতা আব্দুল কাদির পলাশ। “খবর ধারা” কে তিনি বলেন, এই গ্রেফতার নিছক লোক দেখানো নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। তার দাবি, এই মামলার ওয়ারেন্ট অনেক আগেই থানায় পৌঁছেছিল, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও খিজির আহমদ জামিন নেননি। এ বিষয়ে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা বিচার-বিবেচনার ভার তিনি পৌর এলাকার সচেতন নাগরিকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বড়লেখা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির এমাদুল ইসলাম “খবর ধারা” কে বলেন, “শহীদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের দিন পুলিশের গুলিতে লোকমান আহমদ নিহত হন। সেই মামলায় পুলিশ বাদী হয়ে আমাদের আসামি করে। সেই মামলার ওয়ারেন্টেই খিজির আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইউনূস সরকারের আমলে লোকমান হত্যা মামলার সব কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং মামলাটি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাহলে হঠাৎ কেন এই গ্রেফতার?”

জানা গেছে, বড়লেখা পৌরসভায় জামায়াতের মেয়র প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান ও প্রবাসে ব্যবসা থাকায় খিজির আহমদ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিয়মিত দেশে আসা-যাওয়া করছেন, যদিও বর্তমানে জামায়াতের কোনো দায়িত্বে নেই।

স্থানীয় অনেকের ধারণা, মেয়র মনোনয়নের দৌড়ে নিজেকে আলোচনায় নিয়ে আসতে এবং জনসহানুভূতি আদায়ের কৌশল হিসেবেই খিজির আহমদ দীর্ঘদিন জামিন না নিয়ে নিজেকে গ্রেফতার হতে দিয়েছেন বলে মনে করছেন তারা। তাদের প্রশ্ন, একটি দীর্ঘদিনের পুরনো ও প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকা মামলায় হঠাৎ কেন এই পদক্ষেপ, আর কেনই বা বারবার সুযোগ পেয়েও জামিনের ব্যবস্থা করা হয়নি।