ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খবর ধারা :
এ কোন বাংলাদেশ? জামায়াতের বাধায় রাত ২টায় গোপনে মুক্তিযোদ্ধার দাফন, কোদাল হাতে স্ত্রী-কন্যা! জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাইকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ নদীতে, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার – স্বীকারোক্তি বড়লেখা পৌরসভা চালায় আওয়ামী লীগ! যুবলীগ সভাপতি জালালের ১২ লাখ টাকা কেলেঙ্কারি ফাঁস তফসিলই হয়নি, তারিখও অজানা — এরই মধ্যে বড়লেখায় মেয়র প্রার্থীর ১৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা, জনমনে প্রশ্ন শাহবাজপুরে ৩৬০ মিটারের রাস্তায় ৭০ লাখের টেন্ডার: এলটিএমের আড়ালে কাজ পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান বড়লেখা পৌরসভা: বিএনপি আমলে কীভাবে কাজ পেলেন যুবলীগ নেতা শাহজাহান কমিশনার? সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী ছাত্রদলের গলা টিপে ধরার ছবিটি ভুয়া, গুজব ছড়াচ্ছেন জাকির হোসেন ইউপি নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নিয়ে ভাইরাল তথ্য ‘গুজব’ সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার, ২ মাস পর লাশ হলো সুফিয়ান | বড়লেখা

মেয়র মনোনয়ন ও জনসহানুভূতি আদায়ে, বারবার অনুরোধেও জামিন নেননি খিজির, অতঃপর গ্রেফতার

খবর ধারা নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

মেয়র মনোনয়ন ও জনসহানুভূতি আদায়ে, বারবার অনুরোধেও জামিন নেননি খিজির, অতঃপর গ্রেফতার

বড়লেখা প্রতিনিধি, খবর ধারা: মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র প্রার্থী খিজির আহমদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে বড়লেখার হাজীগঞ্জ বাজারের আলভীন রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের প্রতিবাদে বড়লেখায় জামায়াতে ইসলামী ও তৌহিদী জনতার মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে পুলিশ হামলা ও গুলিবর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে লোকমান আহমদ নিহত হন।

এ ঘটনায় খিজির আহমদসহ জামায়াতে ইসলামীর ৬৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রায় ১৩ বছর আগের ওই মামলার ওয়ারেন্ট বহাল থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খিজির আহমদের গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির নেতা আব্দুল কাদির পলাশ। “খবর ধারা” কে তিনি বলেন, এই গ্রেফতার নিছক লোক দেখানো নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। তার দাবি, এই মামলার ওয়ারেন্ট অনেক আগেই থানায় পৌঁছেছিল, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও খিজির আহমদ জামিন নেননি। এ বিষয়ে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা বিচার-বিবেচনার ভার তিনি পৌর এলাকার সচেতন নাগরিকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বড়লেখা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির এমাদুল ইসলাম “খবর ধারা” কে বলেন, “শহীদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের দিন পুলিশের গুলিতে লোকমান আহমদ নিহত হন। সেই মামলায় পুলিশ বাদী হয়ে আমাদের আসামি করে। সেই মামলার ওয়ারেন্টেই খিজির আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইউনূস সরকারের আমলে লোকমান হত্যা মামলার সব কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং মামলাটি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাহলে হঠাৎ কেন এই গ্রেফতার?”

জানা গেছে, বড়লেখা পৌরসভায় জামায়াতের মেয়র প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান ও প্রবাসে ব্যবসা থাকায় খিজির আহমদ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিয়মিত দেশে আসা-যাওয়া করছেন, যদিও বর্তমানে জামায়াতের কোনো দায়িত্বে নেই।

স্থানীয় অনেকের ধারণা, মেয়র মনোনয়নের দৌড়ে নিজেকে আলোচনায় নিয়ে আসতে এবং জনসহানুভূতি আদায়ের কৌশল হিসেবেই খিজির আহমদ দীর্ঘদিন জামিন না নিয়ে নিজেকে গ্রেফতার হতে দিয়েছেন বলে মনে করছেন তারা। তাদের প্রশ্ন, একটি দীর্ঘদিনের পুরনো ও প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকা মামলায় হঠাৎ কেন এই পদক্ষেপ, আর কেনই বা বারবার সুযোগ পেয়েও জামিনের ব্যবস্থা করা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মেয়র মনোনয়ন ও জনসহানুভূতি আদায়ে, বারবার অনুরোধেও জামিন নেননি খিজির, অতঃপর গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

মেয়র মনোনয়ন ও জনসহানুভূতি আদায়ে, বারবার অনুরোধেও জামিন নেননি খিজির, অতঃপর গ্রেফতার

বড়লেখা প্রতিনিধি, খবর ধারা: মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র প্রার্থী খিজির আহমদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে বড়লেখার হাজীগঞ্জ বাজারের আলভীন রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের প্রতিবাদে বড়লেখায় জামায়াতে ইসলামী ও তৌহিদী জনতার মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে পুলিশ হামলা ও গুলিবর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে লোকমান আহমদ নিহত হন।

এ ঘটনায় খিজির আহমদসহ জামায়াতে ইসলামীর ৬৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রায় ১৩ বছর আগের ওই মামলার ওয়ারেন্ট বহাল থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খিজির আহমদের গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির নেতা আব্দুল কাদির পলাশ। “খবর ধারা” কে তিনি বলেন, এই গ্রেফতার নিছক লোক দেখানো নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। তার দাবি, এই মামলার ওয়ারেন্ট অনেক আগেই থানায় পৌঁছেছিল, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও খিজির আহমদ জামিন নেননি। এ বিষয়ে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা বিচার-বিবেচনার ভার তিনি পৌর এলাকার সচেতন নাগরিকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বড়লেখা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির এমাদুল ইসলাম “খবর ধারা” কে বলেন, “শহীদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের দিন পুলিশের গুলিতে লোকমান আহমদ নিহত হন। সেই মামলায় পুলিশ বাদী হয়ে আমাদের আসামি করে। সেই মামলার ওয়ারেন্টেই খিজির আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইউনূস সরকারের আমলে লোকমান হত্যা মামলার সব কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং মামলাটি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাহলে হঠাৎ কেন এই গ্রেফতার?”

জানা গেছে, বড়লেখা পৌরসভায় জামায়াতের মেয়র প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান ও প্রবাসে ব্যবসা থাকায় খিজির আহমদ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিয়মিত দেশে আসা-যাওয়া করছেন, যদিও বর্তমানে জামায়াতের কোনো দায়িত্বে নেই।

স্থানীয় অনেকের ধারণা, মেয়র মনোনয়নের দৌড়ে নিজেকে আলোচনায় নিয়ে আসতে এবং জনসহানুভূতি আদায়ের কৌশল হিসেবেই খিজির আহমদ দীর্ঘদিন জামিন না নিয়ে নিজেকে গ্রেফতার হতে দিয়েছেন বলে মনে করছেন তারা। তাদের প্রশ্ন, একটি দীর্ঘদিনের পুরনো ও প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকা মামলায় হঠাৎ কেন এই পদক্ষেপ, আর কেনই বা বারবার সুযোগ পেয়েও জামিনের ব্যবস্থা করা হয়নি।