ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খবর ধারা :
মেয়র মনোনয়ন ও জনসহানুভূতি আদায়ে, বারবার অনুরোধেও জামিন নেননি খিজির, অতঃপর গ্রেফতার বড়লেখা-জুড়ীতে রাস্তা ও জনকল্যাণমূলক কাজে এমপি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর বিশেষ অনুদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বড়লেখায় বিএনপির মিছিল ও পথসভা বড়লেখায় ডিসির আদেশ তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ ইটভাটা! জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ স্লোগানে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল বড়লেখা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন এমপি মিঠুর উপস্থিতিতে বড়লেখায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন জোড়া খুন মামলার আসামি জামায়াত নেতা সামছুল ইসলাম গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ হাকালুকির গুপ্তধন! পিট কয়লা উত্তোলনে সংসদে সরব এমপি নাসির উদ্দিন আহমদ আবারও জামায়াতের নেতৃত্বে বড়লেখায় ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন

বড়লেখায় ডিসির আদেশ তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ ইটভাটা!

খবর ধারা নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

বড়লেখার মিরার পাতন গ্রামে এস আর ব্রিকস ইটভাটার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, মসজিদ ও গ্রামীণ রাস্তা

বড়লেখায় ডিসির আদেশ তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ ইটভাটা!

বিশেষ প্রতিনিধি, বড়লেখা: আইন আছে, প্রশাসন আছে, এমনকি খোদ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) তদন্তের স্পষ্ট নির্দেশও আছে নেই কেবল সেটি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ! কার অদৃশ্য ইশারায় এবং কার ক্ষমতার বলে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মিরার পাতন গ্রামে জনবসতি ও ফসলি জমি ধ্বংস করে বুক ফুলিয়ে চলছে অবৈধ ‘মেসার্স এস.আর ব্রিকস’ (পূর্ব নাম সুরমা ব্রিকস)? এই প্রশ্ন এখন বড়লেখার সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে।

​লোকালয়, চার-চারটি মসজিদ, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাসপাতালের মাত্র একশ থেকে দুইশ মিটারের মধ্যে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গত ১০ বছর ধরে চলছে এই বিষাক্ত ইটভাটা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এই ইটভাটার মালিকপক্ষের কালো থাবা ও ক্ষমতার দাপটের কাছে বারবার মার খাচ্ছে নিরীহ হাজারো মানুষের আর্তনাদ।

ডিসির নির্দেশ কপি – 

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর এই পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটা বন্ধের লিখিত আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতে গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে (স্মারক নং- ০৫.৪৬.৫৮০০.০০০.০১৩.২২.০০০১.২৫.৪২৩) পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

​কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, জেলা প্রশাসনের এই আদেশের পর মাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য এক ‘খুঁটির জোরে’ বহাল তবিয়তে চলছে ইটভাটার সব কার্যক্রম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইটভাটার মালিকপক্ষ রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের একাংশকে ম্যানেজ করেই এই তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইটভাটায় কয়লা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ‘এস.আর ব্রিকস’ প্রতিনিয়ত সংরক্ষিত পাথারিয়া পাহাড়ের বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে এনে কাঠ পুড়িয়ে চলেছে। ভাটার চিমনি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো মিরার পাতন ও রাজডুটি এলাকার বাতাস এখন বিষাক্ত। শুধু তাই নয়, ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর অংশ (টপ সয়েল) জোরপূর্বক কেটে ইট তৈরিতে ব্যবহার করায় এলাকার কৃষি ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

ইটভাটার মালিকপক্ষের ক্ষমতার দাপট কতটা ভয়ংকর, তার প্রমাণ মেলে স্থানীয় ‘ঘাটমা ছড়া’ খালের চিত্র দেখলে। ইট পরিবহনের রাস্তা বানানোর জন্য আইলাপুর অংশে খালের দুই পাড় কেটে এবং রাবিশ-মাটি ফেলে খালের স্বাভাবিক গতিপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় দেখা দিচ্ছে কৃত্রিম বন্যা। গত কয়েকদিনের অতিবর্ষণে খালের পানি সরতে না পেরে মিরার পাতনসহ আশেপাশের গ্রামের শত শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, নষ্ট হয়েছে বিঘার পর বিঘা ফসলের জমি।

সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকাতেও এই এলাকার সড়ক নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইটভাটার মাটি ও ইট বহনের কাজে নিয়োজিত শত শত ওভারলোডেড ডাম্প ট্রাক ও অবৈধ মাহিন্দ্রা/ট্রাক্টরের কারণে গ্রামীণ পাকা রাস্তাগুলো ভেঙে ধুলো আর কাদার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে বাতাসে ওড়া ধুলোবালির কারণে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে, আর বর্ষায় সড়ক পরিণত হচ্ছে মরণফাঁদে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে শুরু করে স্থানীয় সংসদ সদস্য—সব দপ্তরেই এলাকাবাসীর কান্নার আবেদন জমা পড়েছে। ডাক বিভাগের রেজিস্ট্রি রসিদ এবং স্ট্যাম্পের লিখিত অভিযোগই প্রমাণ করে, মানুষ কতটা নিরুপায় হয়ে আইনি লড়াই লড়ছেন।

​বড়লেখার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রশ্ন—একটি স্বাধীন দেশে কতিপয় অর্থলোভী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে কি পুরো প্রশাসন জিম্মি? কার ক্ষমতার বলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশকেও তোয়াক্কা করছে না ‘এস.আর ব্রিকস’ এর মালিকপক্ষ? এই পরিবেশ সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে অবিলম্বে ইটভাটাটি চিরতরে বন্ধ করা না হলে, বড়লেখার সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বড়লেখায় ডিসির আদেশ তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ ইটভাটা!

আপডেট সময় : ০৭:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বড়লেখায় ডিসির আদেশ তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ ইটভাটা!

বিশেষ প্রতিনিধি, বড়লেখা: আইন আছে, প্রশাসন আছে, এমনকি খোদ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) তদন্তের স্পষ্ট নির্দেশও আছে নেই কেবল সেটি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ! কার অদৃশ্য ইশারায় এবং কার ক্ষমতার বলে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মিরার পাতন গ্রামে জনবসতি ও ফসলি জমি ধ্বংস করে বুক ফুলিয়ে চলছে অবৈধ ‘মেসার্স এস.আর ব্রিকস’ (পূর্ব নাম সুরমা ব্রিকস)? এই প্রশ্ন এখন বড়লেখার সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে।

​লোকালয়, চার-চারটি মসজিদ, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাসপাতালের মাত্র একশ থেকে দুইশ মিটারের মধ্যে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গত ১০ বছর ধরে চলছে এই বিষাক্ত ইটভাটা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এই ইটভাটার মালিকপক্ষের কালো থাবা ও ক্ষমতার দাপটের কাছে বারবার মার খাচ্ছে নিরীহ হাজারো মানুষের আর্তনাদ।

ডিসির নির্দেশ কপি – 

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর এই পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটা বন্ধের লিখিত আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতে গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে (স্মারক নং- ০৫.৪৬.৫৮০০.০০০.০১৩.২২.০০০১.২৫.৪২৩) পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

​কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, জেলা প্রশাসনের এই আদেশের পর মাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য এক ‘খুঁটির জোরে’ বহাল তবিয়তে চলছে ইটভাটার সব কার্যক্রম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইটভাটার মালিকপক্ষ রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের একাংশকে ম্যানেজ করেই এই তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইটভাটায় কয়লা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ‘এস.আর ব্রিকস’ প্রতিনিয়ত সংরক্ষিত পাথারিয়া পাহাড়ের বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে এনে কাঠ পুড়িয়ে চলেছে। ভাটার চিমনি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো মিরার পাতন ও রাজডুটি এলাকার বাতাস এখন বিষাক্ত। শুধু তাই নয়, ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর অংশ (টপ সয়েল) জোরপূর্বক কেটে ইট তৈরিতে ব্যবহার করায় এলাকার কৃষি ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

ইটভাটার মালিকপক্ষের ক্ষমতার দাপট কতটা ভয়ংকর, তার প্রমাণ মেলে স্থানীয় ‘ঘাটমা ছড়া’ খালের চিত্র দেখলে। ইট পরিবহনের রাস্তা বানানোর জন্য আইলাপুর অংশে খালের দুই পাড় কেটে এবং রাবিশ-মাটি ফেলে খালের স্বাভাবিক গতিপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় দেখা দিচ্ছে কৃত্রিম বন্যা। গত কয়েকদিনের অতিবর্ষণে খালের পানি সরতে না পেরে মিরার পাতনসহ আশেপাশের গ্রামের শত শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, নষ্ট হয়েছে বিঘার পর বিঘা ফসলের জমি।

সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকাতেও এই এলাকার সড়ক নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইটভাটার মাটি ও ইট বহনের কাজে নিয়োজিত শত শত ওভারলোডেড ডাম্প ট্রাক ও অবৈধ মাহিন্দ্রা/ট্রাক্টরের কারণে গ্রামীণ পাকা রাস্তাগুলো ভেঙে ধুলো আর কাদার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে বাতাসে ওড়া ধুলোবালির কারণে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে, আর বর্ষায় সড়ক পরিণত হচ্ছে মরণফাঁদে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে শুরু করে স্থানীয় সংসদ সদস্য—সব দপ্তরেই এলাকাবাসীর কান্নার আবেদন জমা পড়েছে। ডাক বিভাগের রেজিস্ট্রি রসিদ এবং স্ট্যাম্পের লিখিত অভিযোগই প্রমাণ করে, মানুষ কতটা নিরুপায় হয়ে আইনি লড়াই লড়ছেন।

​বড়লেখার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রশ্ন—একটি স্বাধীন দেশে কতিপয় অর্থলোভী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে কি পুরো প্রশাসন জিম্মি? কার ক্ষমতার বলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশকেও তোয়াক্কা করছে না ‘এস.আর ব্রিকস’ এর মালিকপক্ষ? এই পরিবেশ সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে অবিলম্বে ইটভাটাটি চিরতরে বন্ধ করা না হলে, বড়লেখার সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা।