হাকালুকির গুপ্তধন! পিট কয়লা উত্তোলনে সংসদে সরব এমপি নাসির উদ্দিন আহমদ
- আপডেট সময় : ১০:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
হাকালুকির গুপ্তধন! পিট কয়লা উত্তোলনে সংসদে সরব এমপি নাসির উদ্দিন আহমদ
স্টাফ রিপোর্টার: এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম জলাভূমি হাকালুকি হাওরের চাতলা বিলে আবিষ্কৃত বিপুল পরিমাণ পিট কয়লা দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে জাতীয় সংসদে সরব হয়েছেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ নাসির উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি বিশেষ নোটিশ জমা দিয়েছেন।
সংসদ সদস্যের নোটিশ এবং ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, হাকালুকি হাওরের চাতলা বিল এলাকায় পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে বিপুল পরিমাণ পিট কয়লার মজুদ শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কয়লা ব্যবহার করে ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে টানা প্রায় ৩০ বছর জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।
জানা গেছে, চাতলা বিলের প্রায় ৪ থেকে ৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আগার মেশিনের মাধ্যমে পরিচালিত অনুসন্ধানে মাটির মাত্র ০.২ থেকে ২.৫ ফুট গভীরতার নিচে প্রায় ৩০ ফুট পুরুত্বের পিট কয়লার স্তর পাওয়া গেছে। ভূতাত্ত্বিকদের ধারণা, এ কয়লার বয়স প্রায় সাত হাজার বছর।
এর আগে ১৯৮৪ সালেও এলাকাটিতে প্রাথমিকভাবে কয়লার অস্তিত্বের সন্ধান মিলেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল পুনরায় বিস্তৃত জরিপ পরিচালনা করে। জরিপ চলাকালে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিরাজুর রহমান খান সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন।
জাতীয় সংসদে দেওয়া নোটিশে এমপি নাসির উদ্দিন আহমদ সরকারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাখ্যা ও পরিকল্পনা জানতে চান। তিনি জানতে চান, আবিষ্কৃত পিট কয়লা উত্তোলনের জন্য সরকার কোনো বিশেষায়িত প্রকল্প গ্রহণ বা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিচ্ছে কি না।
পাশাপাশি হাকালুকি হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি ও মৎস্যসম্পদ অক্ষুণ্ন রেখে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকারের কোনো বিশেষ পরিকল্পনা বা বরাদ্দ থাকবে কি না, তাও জানতে চান সংসদ সদস্য।
নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, “চাতলা বিলের এই মূল্যবান খনিজ সম্পদ সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে উত্তোলন করা গেলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমবে, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
স্থানীয়দের মতে, হাকালুকি হাওরের এই সম্ভাবনাময় খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বড়লেখা-জুড়ী অঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।













