ঢাকা ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খবর ধারা :
মেয়র মনোনয়ন ও জনসহানুভূতি আদায়ে, বারবার অনুরোধেও জামিন নেননি খিজির, অতঃপর গ্রেফতার বড়লেখা-জুড়ীতে রাস্তা ও জনকল্যাণমূলক কাজে এমপি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর বিশেষ অনুদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বড়লেখায় বিএনপির মিছিল ও পথসভা বড়লেখায় ডিসির আদেশ তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ ইটভাটা! জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ স্লোগানে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল বড়লেখা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন এমপি মিঠুর উপস্থিতিতে বড়লেখায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন জোড়া খুন মামলার আসামি জামায়াত নেতা সামছুল ইসলাম গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ হাকালুকির গুপ্তধন! পিট কয়লা উত্তোলনে সংসদে সরব এমপি নাসির উদ্দিন আহমদ আবারও জামায়াতের নেতৃত্বে বড়লেখায় ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন

মাঠকর্মীদের গুরুতর অভিযোগ, এমপি মিঠুকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখালেন বড়লেখার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা!

খবর ধারা নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

সীমা সিদ্দিকা

সমাঠকর্মীদের গুরুতর অভিযোগ, এমপি মিঠুকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখালেন বড়লেখার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা!

বড়লেখা প্রতিনিধি | খবর ধারা

১৮ মে, 2026

​মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবজ্ঞা করা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং মাঠকর্মীদের সাথে অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নাসির উদ্দীন আহমদ মিঠুর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অনুপস্থিত থেকে তিনি কার্যত স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখিয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

​এদিকে, তার বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অপ্রত্যাশিত আচরণের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার ক্ষুব্ধ মাঠকর্মীবৃন্দ। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো প্রতিকার না মেলায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে।

আজ ১৮ মে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠু। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা উপস্থিত হননি। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এমপি নাসির উদ্দীন আহমদ মিঠুর হাসপাতাল পরিদর্শনের সময়ও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

​পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তার এই অনুপস্থিতিকে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল দেখছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সরাসরি অবজ্ঞা বা ‘ডিনাই’ করার শামিল হিসেবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-

সীমা সিদ্দিকা গোপনে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার খুঁটির জোর অনেক উঁচুতে। তাই তার বিরুদ্ধে মাঠকর্মীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না, তিনি কাউকেই তোয়াক্কা করছেন না। এমপির দুটি মিটিংয়ে অনুপস্থিত তার প্রমাণ।

বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীবৃন্দ জেলা উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগ পত্রে মাঠকর্মীরা উল্লেখ করেন, বর্তমান কর্মকর্তার আচরণ ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে কর্মপরিবেশে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

​বিশেষ করে ডেপুটেশন সংক্রান্ত বিষয়ে কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা মাঠকর্মীদের উদ্দেশ্য করে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে তার কয়েকটি বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হয়েছে:

১। “বড়লেখায় সকল স্টাফ চরম বেয়াদব।”

২। “আমি বড়লেখাতে আর কাউকে ডিপুটেশনে পছন্দ করি না এবং বিশেষ করে স্থায়ী পদ্ধতিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করি।”

৩.. “আমি বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা। আমি যা চাই তাই করতে পারবো। আমার বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারবে না।”

​মাঠকর্মীদের দাবি, এই ধরণের অহংকারপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য তাদের পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং সরকারি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তারা এই বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ‘খবর ধারা’-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা সভায় অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,

​”আমি দুই দিনের স্টেশন লিভ (ছুটি) নিয়ে বর্তমানে ছুটিতে আছি। আজকের মিটিংয়ে আমাদের কার্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।”

​তবে মাঠকর্মীদের লিখিত অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন,

​”এমন কোনো অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই।”

​ছুটির অজুহাত দিলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে হাসপাতালের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এত বড় মিটিংয়ের দিনে কর্মকর্তার এই ছুটি নেওয়া এবং মাঠকর্মীদের সাথে লাগাতার বৈষম্যমূলক আচরণ উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে স্থবির করে তুলছে। ভুক্তভোগীরা এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাঠকর্মীদের গুরুতর অভিযোগ, এমপি মিঠুকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখালেন বড়লেখার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা!

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

সমাঠকর্মীদের গুরুতর অভিযোগ, এমপি মিঠুকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখালেন বড়লেখার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা!

বড়লেখা প্রতিনিধি | খবর ধারা

১৮ মে, 2026

​মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবজ্ঞা করা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং মাঠকর্মীদের সাথে অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নাসির উদ্দীন আহমদ মিঠুর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অনুপস্থিত থেকে তিনি কার্যত স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখিয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

​এদিকে, তার বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অপ্রত্যাশিত আচরণের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার ক্ষুব্ধ মাঠকর্মীবৃন্দ। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো প্রতিকার না মেলায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে।

আজ ১৮ মে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠু। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা উপস্থিত হননি। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এমপি নাসির উদ্দীন আহমদ মিঠুর হাসপাতাল পরিদর্শনের সময়ও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

​পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তার এই অনুপস্থিতিকে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল দেখছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সরাসরি অবজ্ঞা বা ‘ডিনাই’ করার শামিল হিসেবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-

সীমা সিদ্দিকা গোপনে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার খুঁটির জোর অনেক উঁচুতে। তাই তার বিরুদ্ধে মাঠকর্মীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না, তিনি কাউকেই তোয়াক্কা করছেন না। এমপির দুটি মিটিংয়ে অনুপস্থিত তার প্রমাণ।

বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীবৃন্দ জেলা উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগ পত্রে মাঠকর্মীরা উল্লেখ করেন, বর্তমান কর্মকর্তার আচরণ ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে কর্মপরিবেশে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

​বিশেষ করে ডেপুটেশন সংক্রান্ত বিষয়ে কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা মাঠকর্মীদের উদ্দেশ্য করে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে তার কয়েকটি বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হয়েছে:

১। “বড়লেখায় সকল স্টাফ চরম বেয়াদব।”

২। “আমি বড়লেখাতে আর কাউকে ডিপুটেশনে পছন্দ করি না এবং বিশেষ করে স্থায়ী পদ্ধতিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করি।”

৩.. “আমি বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা। আমি যা চাই তাই করতে পারবো। আমার বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারবে না।”

​মাঠকর্মীদের দাবি, এই ধরণের অহংকারপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য তাদের পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং সরকারি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তারা এই বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ‘খবর ধারা’-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা সভায় অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,

​”আমি দুই দিনের স্টেশন লিভ (ছুটি) নিয়ে বর্তমানে ছুটিতে আছি। আজকের মিটিংয়ে আমাদের কার্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।”

​তবে মাঠকর্মীদের লিখিত অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন,

​”এমন কোনো অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই।”

​ছুটির অজুহাত দিলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে হাসপাতালের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এত বড় মিটিংয়ের দিনে কর্মকর্তার এই ছুটি নেওয়া এবং মাঠকর্মীদের সাথে লাগাতার বৈষম্যমূলক আচরণ উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে স্থবির করে তুলছে। ভুক্তভোগীরা এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।