দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েই সিলেট বিভাগের ‘সেরা’ মৎস্য কর্মকর্তা হলেন জুড়ীর মনিরুজ্জামান
এক হাতে দুর্নীতির অভিযোগ, অন্য হাতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার; জুড়ীর মৎস্য কর্মকর্তাকে নিয়ে তোলপাড়!
- আপডেট সময় : ১১:০০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
এক হাতে দুর্নীতির অভিযোগ, অন্য হাতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার; জুড়ীর মৎস্য কর্মকর্তাকে নিয়ে তোলপাড়!
নিজস্ব প্রতিবেদক, জুড়ী (মৌলভীবাজার) | ৮ মে ২০২৬
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামানের জন্য গত ৬ মে তারিখটি ছিল এক অদ্ভূত এবং চরম নাটকীয়তায় ভরা দিন। একই দিন, একই তারিখে একদিকে যখন তার দুর্নীতির ফিরিস্তি নিয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি গ্রহণ করছেন সিলেট বিভাগের ‘শ্রেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা’র সম্মাননা সনদ। এক হাতে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এবং অন্য হাতে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি এমন বিরল ঘটনায় পুরো জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বুধবার (৬ মে ২০২৬) সকালে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কাদির নামের এক ভুক্তভোগী। অভিযোগে দাবি করা হয়, মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জুড়ী উপজেলায় দায়িত্ব পালনের আড়ালে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। হাকালুকি হাওরে অবৈধভাবে বিল সেচে মাছ লুট, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কারেন্ট জাল বাণিজ্য এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অথচ বিস্ময়কর বিষয় হলো, ঠিক একই তারিখে (৬ মে ২০২৬) মৎস্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক মোঃ আসাদুল বাকী স্বাক্ষরিত একটি পত্রে মোঃ মনিরুজ্জামানকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিভাগীয় মূল্যায়ন কমিটির মতে, তিনি ‘দক্ষতা, সততা ও সফলতার’ সঙ্গে সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন!
একদিকে মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা তার অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলে অভিযোগ দিচ্ছে, অন্যদিকে সেই একই সময়ে উচ্চপর্যায় থেকে তাকে ‘সততা’র সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে। এই বৈপরীত্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন বিভাগীয় এই মূল্যায়ন কমিটি কি মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত চিত্র না দেখেই এমন পুরস্কারের নাম ঘোষণা করেছে? নাকি অভিযোগ ধামাচাপা দিতেই এই পুরস্কারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে?
এর আগে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে মোঃ মনিরুজ্জামান ‘খবর ধারা’-কে বলেছিলেন, “আপনারা তদন্ত করে যা পাবেন তাই লিখেন, এটাই আমার বক্তব্য।” তবে একই দিনে পুরস্কার পাওয়ার পর এই বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় নতুন করে রহস্যের দানা বেঁধেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর দেওয়া লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন সচেতন মহলের দৃষ্টি সেদিকেই সেরা কর্মকর্তার তকমা পাওয়া মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হবে কি না।














