কমিটির সম্পাদক নেই, স্ট্যান্ড নেই—তবুও চলছে সভাপতি জব্বারের কুপন বিতরণ।
স্ট্যান্ড নেই, সম্পাদক নেই, তবু সভাপতি! এমপি মিঠু ও বিএনপির নাম ভাঙিয়ে মাধবকুন্ডে ‘ভূতের কমিটি’
- আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
স্ট্যান্ড নেই, সম্পাদক নেই, তবু সভাপতি! এমপি মিঠু ও বিএনপির নাম ভাঙিয়ে মাধবকুন্ডে ‘ভূতের কমিটি’
স্টাফ রিপোর্টার | ৮ মে ২০২৬
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র মাধবকুন্ড ইকোপার্ক এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা পরিচালনা কমিটি গঠন ও ভাড়া নির্ধারণকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রচারিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে মোহাম্মদ আব্দুর জব্বারকে “মাধবকুন্ড ইকোপার্ক সিএনজি পরিচালনা কমিটি ২৩৫৯”-এর সভাপতি দাবি করা হলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, অস্তিত্বহীন একটি স্ট্যান্ড ও কমিটির নামে সংদ সদস্য আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমদ (মিঠু)-এর নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধবকুন্ড থেকে কাঠালতলী পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কে জনপ্রতি ৩০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত “মাননীয় সংসদ সদস্য” ও দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোহাম্মদ আব্দুর জব্বারকে কমিটির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে ‘খবর ধারা’ অনুসন্ধান চালালে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে।
প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে মোহাম্মদ আব্দুর জব্বার নিজেকে বিএনপির পক্ষ থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বলে দাবি করেন। কিন্তু কমিটির সাধারণ সম্পাদকের নাম জানতে চাইলে তিনি কোনো নাম বলতে পারেননি। এমনকি মাধবকুন্ড এলাকায় আদৌ কোনো সিএনজি স্ট্যান্ড আছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, সেখানে বর্তমানে কোনো সিএনজি স্ট্যান্ড নেই।
একদিকে স্ট্যান্ড নেই, অন্যদিকে সম্পাদকবিহীন কমিটি, আবার সেই কমিটির সভাপতি দাবি করে কুপন বিতরণ ও ভাড়া নির্ধারণের ঘোষণা স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুর নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হলে তা রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। অনেকেই এটিকে এমপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “যেখানে কোনো স্ট্যান্ডই নেই, সেখানে আবার কমিটি কিভাবে হয়? আর এমপির নাম ব্যবহার করে এভাবে সিদ্ধান্ত প্রচার করা খুবই দুঃখজনক।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কার স্বার্থে এবং কোন উদ্দেশ্যে “অস্তিত্বহীন” কমিটির নামে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।














