ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খবর ধারা :
বড়লেখা পৌরসভা চালায় আওয়ামী লীগ! যুবলীগ সভাপতি জালালের ১২ লাখ টাকা কেলেঙ্কারি ফাঁস তফসিলই হয়নি, তারিখও অজানা — এরই মধ্যে বড়লেখায় মেয়র প্রার্থীর ১৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা, জনমনে প্রশ্ন শাহবাজপুরে ৩৬০ মিটারের রাস্তায় ৭০ লাখের টেন্ডার: এলটিএমের আড়ালে কাজ পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান বড়লেখা পৌরসভা: বিএনপি আমলে কীভাবে কাজ পেলেন যুবলীগ নেতা শাহজাহান কমিশনার? সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী ছাত্রদলের গলা টিপে ধরার ছবিটি ভুয়া, গুজব ছড়াচ্ছেন জাকির হোসেন ইউপি নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নিয়ে ভাইরাল তথ্য ‘গুজব’ সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার, ২ মাস পর লাশ হলো সুফিয়ান | বড়লেখা রাজনগরে ৮ ফুট মাটির নিচে গৃহবধূর লাশ, স্বামীর স্বীকারোক্তিতে উদ্ধার জাফরের অপরাধ কী? ৭০০ টাকার বিতর্কে নিহতের স্ত্রীর ভুল স্বীকার, লাইভে ১৫ হাজার দেন জাফর ইকবাল |

শাহবাজপুরে ৩৬০ মিটারের রাস্তায় ৭০ লাখের টেন্ডার: এলটিএমের আড়ালে কাজ পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান

খবর ধারা নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

শাহবাজপুরে ৩৬০ মিটারের রাস্তায় ৭০ লাখের টেন্ডার: এলটিএমের আড়ালে কাজ পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | খবর ধারা: বড়লেখা উপজেলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এখনো পুরোনো সিন্ডিকেটের আধিপত্য বিদ্যমান। উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে এলটিএম (LTM) পদ্ধতির অপব্যবহার করে প্রায় ৭০ লাখ টাকার কাজ হাতিয়ে নিয়েছেন বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর কমিশনার শাহজাহান আহমদ।

এলজিইডির নথিপত্র (Tender ID: 1264187) অনুযায়ী, ‘শাহবাজপুর-পাথালিয়া রাস্তা হতে বনশ্রী আশ্রয়ণ প্রকল্প’ পর্যন্ত মাত্র ৩৬০ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ১৭৪ টাকা। কাজটি ‘মেসার্স মোঃ জাকির হোসেন’ নামক প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পুরো প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ ও সুবিধা ভোগ করছেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান আহমদ।

সরকারি বিধি অনুযায়ী বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র (OTM) আহ্বান করার নিয়ম থাকলেও, এখানে চতুরতার সাথে সীমিত দরপত্র বা এলটিএম (LTM) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাইরের ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ ঠেকিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ পাইয়ে দিতেই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।

ই-জিপি পোর্টালের তথ্য বিশ্লেষণে নজিরবিহীন প্রশাসনিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। নথি অনুযায়ী, নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (NOA) জারি হয়েছে ১৬ জুন এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ২১ জুন। অথচ, প্রকল্পের প্রস্তাবিত শুরুর তারিখ দেখানো হয়েছে ৩১ মে। অর্থাৎ, চুক্তি হওয়ার আগেই কাজ শুরু হয়েছে—এমনটি দেখিয়ে ব্যাকডেটিং বা পেছনের তারিখে নথি তৈরির মাধ্যমে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

গত ২ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই প্রকল্পটির ব্যয় নিয়ে জনমনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। মাত্র ৩৬০ মিটারের রাস্তার জন্য কেন এত বড় অংকের বাজেট ধরা হলো এবং কেন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এড়িয়ে গোপনে কাজ দেওয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, গত ১৭ বছর যারা সরকারি তহবিল লুট করেছে, তারা এখন বিএনপি নামধারী কিছু সুবিধাবাদীর সাথে আঁতাত করে টেন্ডার সিন্ডিকেট টিকিয়ে রেখেছে। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এমন জালিয়াতি সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহজাহান আহমদ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।

শাহবাজপুরের সাধারণ মানুষের দাবি, এই বিতর্কিত প্রকল্পের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। সিন্ডিকেটের হাত থেকে সরকারি অর্থ রক্ষায় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই কাজের অনিয়ম খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহবাজপুরে ৩৬০ মিটারের রাস্তায় ৭০ লাখের টেন্ডার: এলটিএমের আড়ালে কাজ পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান

আপডেট সময় : ০২:২৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

শাহবাজপুরে ৩৬০ মিটারের রাস্তায় ৭০ লাখের টেন্ডার: এলটিএমের আড়ালে কাজ পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | খবর ধারা: বড়লেখা উপজেলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এখনো পুরোনো সিন্ডিকেটের আধিপত্য বিদ্যমান। উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে এলটিএম (LTM) পদ্ধতির অপব্যবহার করে প্রায় ৭০ লাখ টাকার কাজ হাতিয়ে নিয়েছেন বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর কমিশনার শাহজাহান আহমদ।

এলজিইডির নথিপত্র (Tender ID: 1264187) অনুযায়ী, ‘শাহবাজপুর-পাথালিয়া রাস্তা হতে বনশ্রী আশ্রয়ণ প্রকল্প’ পর্যন্ত মাত্র ৩৬০ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ১৭৪ টাকা। কাজটি ‘মেসার্স মোঃ জাকির হোসেন’ নামক প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পুরো প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ ও সুবিধা ভোগ করছেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান আহমদ।

সরকারি বিধি অনুযায়ী বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র (OTM) আহ্বান করার নিয়ম থাকলেও, এখানে চতুরতার সাথে সীমিত দরপত্র বা এলটিএম (LTM) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাইরের ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ ঠেকিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ পাইয়ে দিতেই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।

ই-জিপি পোর্টালের তথ্য বিশ্লেষণে নজিরবিহীন প্রশাসনিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। নথি অনুযায়ী, নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (NOA) জারি হয়েছে ১৬ জুন এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ২১ জুন। অথচ, প্রকল্পের প্রস্তাবিত শুরুর তারিখ দেখানো হয়েছে ৩১ মে। অর্থাৎ, চুক্তি হওয়ার আগেই কাজ শুরু হয়েছে—এমনটি দেখিয়ে ব্যাকডেটিং বা পেছনের তারিখে নথি তৈরির মাধ্যমে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

গত ২ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই প্রকল্পটির ব্যয় নিয়ে জনমনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। মাত্র ৩৬০ মিটারের রাস্তার জন্য কেন এত বড় অংকের বাজেট ধরা হলো এবং কেন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এড়িয়ে গোপনে কাজ দেওয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, গত ১৭ বছর যারা সরকারি তহবিল লুট করেছে, তারা এখন বিএনপি নামধারী কিছু সুবিধাবাদীর সাথে আঁতাত করে টেন্ডার সিন্ডিকেট টিকিয়ে রেখেছে। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এমন জালিয়াতি সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহজাহান আহমদ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।

শাহবাজপুরের সাধারণ মানুষের দাবি, এই বিতর্কিত প্রকল্পের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। সিন্ডিকেটের হাত থেকে সরকারি অর্থ রক্ষায় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই কাজের অনিয়ম খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।