সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার, ২ মাস পর লাশ হলো সুফিয়ান | বড়লেখা
- আপডেট সময় : ০৬:০৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
সম্পর্ক মেনে নেয়নি মেয়ের পরিবার, বিয়ের ২ মাসের মাথায় লাশ হলো সুফিয়ান
নিজস্ব প্রতিবেদন : তালতো বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নিয়ে গোপনে বিয়ে করার জেরে বড়লেখায় মো. সুফিয়ান আহমদ (২৪) নামে এক যুবককে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের মাত্র ২ মাস ৬ দিনের মাথায় লাশ হতে হলো তাকে।
বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইসলাম উদ্দিন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বড়লেখা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত সুফিয়ান আহমদ বড়লেখা উপজেলার গল্লাসাঙ্গন গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। পরিবারের ভাষ্য, তার চাচাতো ভাইয়ের চাচাতো শ্যালিকা সদর ইউনিয়নের রাঙাউটি গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে লিজা বেগমের (২২) সাথে সুফিয়ানের দীর্ঘদিনের প্রেম ছিল।
চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল তারা পরিবারের অমতে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের বিষয়টি উভয় পরিবার থেকে গোপন রাখা হয়। বিয়ের পরও লিজা বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি মেয়ের পরিবার গোপন বিয়ের খবর জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়। এরই জেরে গত ২৭ জুন রাতে লিজাকে দিয়ে ফোন করিয়ে সুফিয়ানকে তাদের বাড়ি রাঙাউটিতে ডেকে নেওয়া হয়।
নিহতের বাবা ইসলাম উদ্দিন বলেন, “হত্যার ১ দিন আগে আমার ছেলেকে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর ও অমানবিক নির্যাতনের পর জোর করে বিষ খাওয়ানো হয়।”
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সুফিয়ানকে প্রথমে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ৬ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
সিলেট কোতোয়ালি থানার এসআই বিপুল দাস জানান, শুক্রবার সকালে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
নিহতের চাচা মজির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলে আব্দুল হামিদের মেয়েকে বিয়ে করায় সুফিয়ান সেই বাড়িতে যাতায়াত করত। আব্দুল হামিদের ভাই আব্দুল করিমের মেয়ে লিজা সম্পর্কে সুফিয়ানের তালতো বোন। সেই সূত্রে তাদের প্রেম ও বিয়ে।”
তিনি আরও বলেন, “কয়েকদিন আগে বেয়াই আব্দুল হামিদ আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, আমি যেন ঘটক সেজে তার ভাইয়ের মেয়েকে জিজ্ঞেস করি- তোমার একটা বিয়ের প্রস্তাব এসেছে, তুমি রাজি কি না? মূলত তারা সবাই মিলে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাতিজাকে হত্যা করেছে।”
নিহতের চাচা জালাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, মামা সমছ উদ্দিন ও ভাই রেদোয়ান আহমদ বলেন, “মেয়ের সাথে সুফিয়ানের সম্পর্ক জানার পরও কীভাবে অন্য জায়গায় মেয়ের বিয়ে ঠিক করে? আবার মেয়েকে দিয়ে ফোন করিয়ে ডেকে নিয়ে হামলা করে? পুলিশের সুরতহালেই নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। আমরা এর বিচার চাই।”
এ বিষয়ে মেয়ের মামা আব্দুর রহমান দাবি করেন, “ছেলেটি আমার বোনের বাড়িতে এসে নিজেই বিষ পান করেছে। তাকে কেউ মারধর করেনি।”
নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য খসরুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ ওবায়দুল হক জানান, “নিহতের পিতা ১১ জনের নামে মামলা করেছেন। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিয়ের মাত্র ২ মাসের মাথায় সুফিয়ানের এমন মৃত্যুতে পুরো বড়লেখাজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় বইছে। দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নিউজ লিংক কমেন্টে…









