ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খবর ধারা :
বড়লেখা পৌরসভা চালায় আওয়ামী লীগ! যুবলীগ সভাপতি জালালের ১২ লাখ টাকা কেলেঙ্কারি ফাঁস তফসিলই হয়নি, তারিখও অজানা — এরই মধ্যে বড়লেখায় মেয়র প্রার্থীর ১৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা, জনমনে প্রশ্ন শাহবাজপুরে ৩৬০ মিটারের রাস্তায় ৭০ লাখের টেন্ডার: এলটিএমের আড়ালে কাজ পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান বড়লেখা পৌরসভা: বিএনপি আমলে কীভাবে কাজ পেলেন যুবলীগ নেতা শাহজাহান কমিশনার? সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী ছাত্রদলের গলা টিপে ধরার ছবিটি ভুয়া, গুজব ছড়াচ্ছেন জাকির হোসেন ইউপি নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নিয়ে ভাইরাল তথ্য ‘গুজব’ সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার, ২ মাস পর লাশ হলো সুফিয়ান | বড়লেখা রাজনগরে ৮ ফুট মাটির নিচে গৃহবধূর লাশ, স্বামীর স্বীকারোক্তিতে উদ্ধার জাফরের অপরাধ কী? ৭০০ টাকার বিতর্কে নিহতের স্ত্রীর ভুল স্বীকার, লাইভে ১৫ হাজার দেন জাফর ইকবাল |

ভিডিও ডিলিট করেও রেহাই নেই: স্ত্রীর লিখিত অভিযোগে বিপাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল

খবর ধারা নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

ভিডিও ডিলিট করেও রেহাই নেই: স্ত্রীর লিখিত অভিযোগে বিপাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল

স্বামীকে পিটিয়ে ভিডিও ভাইরাল, সন্তানদের স্কুল বন্ধ: ইউএনও’র কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর লিখিত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার লিখিত অভিযোগ দিলেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী মোমেনা আক্তার। স্বামীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে সেই ভিডিও ফেসবুকে প্রচার করায় তার স্কুলপড়ুয়া তিন সন্তান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন তিনি।

গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে ইউএনও বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে মোমেনা আক্তার উল্লেখ করেন, গত ২৩ জুন তার স্বামী মোহাম্মদ আলীকে ৩ পিস ইয়াবাসহ ধরার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদে এনে জনসম্মুখে শারীরিক নির্যাতন করেন এবং সেই ঘটনা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিও প্রচার করেন।

মোমেনা আক্তার তার অভিযোগে আরও বলেন, স্বামীর অপরাধের জন্য আদালত ১৫ দিনের জেল ও জরিমানা করেছে, এতে তার পরিবারের আপত্তি নেই। কারণ “অপরাধ করছেন শাস্তি দরকার আছে।” কিন্তু তার প্রশ্ন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম তিনি জনপ্রতিনিধি হয়ে কিভাবে তিনির ফেইসবুক আইডি থেকে মারধরের ভিডিও করেন এটা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।”

তিনি দাবি করেন, ভিডিও রেকর্ড চলাকালীন মারধর করা ও শারীরিক সহিংসতা ছড়ানো দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর আওতাভুক্ত ফৌজদারি অপরাধ। পাশাপাশি “একটি বিষয়ে দুটি আদালতের দুবরকম শাস্তি হয় এটা কি দেশের চলমার আইনে রয়েছে” বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর আগে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ শুরু করলে চেয়ারম্যান আমিনুল হক তার ফেসবুক থেকে বিতর্কিত ভিডিওটি ডিলিট করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু ভিডিও ডিলিট করলেই কি দায় শেষ? মোমেনা আক্তারের লিখিত অভিযোগের পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী এখন তার তিন শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে তারা স্কুলে যেতে পারছে না। একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডে একটি পরিবার কীভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে, এই অভিযোগ তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।

মোমেনা আক্তার তার অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, মানবাধিকার সংগঠন ও প্রেসক্লাবসহ ৭টি দপ্তরে পাঠিয়েছেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া স্পষ্ট বলেছিলেন, “আমার উপস্থিতিতে বা আমার নির্দেশনায় আসামিকে লাঠিপেটা করা হয়নি। এটা আইনগতভাবে বৈধ নয়।” তার এই বক্তব্যের পর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর লিখিত অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করল।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একজন চেয়ারম্যান যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেন, মোবাইল কোর্টের আগেই নিজে ‘বিচার’ করে, নিজে ভাইরাল হওয়ার জন্য ভিডিও ভাইরাল করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ আইনের শাসনের উপর কীভাবে ভরসা রাখবে?

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভিডিও ডিলিট করেও রেহাই নেই: স্ত্রীর লিখিত অভিযোগে বিপাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ভিডিও ডিলিট করেও রেহাই নেই: স্ত্রীর লিখিত অভিযোগে বিপাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল

স্বামীকে পিটিয়ে ভিডিও ভাইরাল, সন্তানদের স্কুল বন্ধ: ইউএনও’র কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর লিখিত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার লিখিত অভিযোগ দিলেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী মোমেনা আক্তার। স্বামীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে সেই ভিডিও ফেসবুকে প্রচার করায় তার স্কুলপড়ুয়া তিন সন্তান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন তিনি।

গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে ইউএনও বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে মোমেনা আক্তার উল্লেখ করেন, গত ২৩ জুন তার স্বামী মোহাম্মদ আলীকে ৩ পিস ইয়াবাসহ ধরার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদে এনে জনসম্মুখে শারীরিক নির্যাতন করেন এবং সেই ঘটনা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিও প্রচার করেন।

মোমেনা আক্তার তার অভিযোগে আরও বলেন, স্বামীর অপরাধের জন্য আদালত ১৫ দিনের জেল ও জরিমানা করেছে, এতে তার পরিবারের আপত্তি নেই। কারণ “অপরাধ করছেন শাস্তি দরকার আছে।” কিন্তু তার প্রশ্ন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম তিনি জনপ্রতিনিধি হয়ে কিভাবে তিনির ফেইসবুক আইডি থেকে মারধরের ভিডিও করেন এটা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।”

তিনি দাবি করেন, ভিডিও রেকর্ড চলাকালীন মারধর করা ও শারীরিক সহিংসতা ছড়ানো দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর আওতাভুক্ত ফৌজদারি অপরাধ। পাশাপাশি “একটি বিষয়ে দুটি আদালতের দুবরকম শাস্তি হয় এটা কি দেশের চলমার আইনে রয়েছে” বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর আগে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ শুরু করলে চেয়ারম্যান আমিনুল হক তার ফেসবুক থেকে বিতর্কিত ভিডিওটি ডিলিট করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু ভিডিও ডিলিট করলেই কি দায় শেষ? মোমেনা আক্তারের লিখিত অভিযোগের পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী এখন তার তিন শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে তারা স্কুলে যেতে পারছে না। একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডে একটি পরিবার কীভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে, এই অভিযোগ তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।

মোমেনা আক্তার তার অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, মানবাধিকার সংগঠন ও প্রেসক্লাবসহ ৭টি দপ্তরে পাঠিয়েছেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া স্পষ্ট বলেছিলেন, “আমার উপস্থিতিতে বা আমার নির্দেশনায় আসামিকে লাঠিপেটা করা হয়নি। এটা আইনগতভাবে বৈধ নয়।” তার এই বক্তব্যের পর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর লিখিত অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করল।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একজন চেয়ারম্যান যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেন, মোবাইল কোর্টের আগেই নিজে ‘বিচার’ করে, নিজে ভাইরাল হওয়ার জন্য ভিডিও ভাইরাল করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ আইনের শাসনের উপর কীভাবে ভরসা রাখবে?

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।